দে মিগেলের মৃত্যুর পর জাতীয় দল থেকে বাদ ওউনো
মাঠে ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রতিপক্ষ ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের মৃত্যুর পর কঠিন সময় পার করছেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনির গোলরক্ষক হেসুস ওউনো। ব্যক্তিগত শোক ও অনলাইন হয়রানির পাশাপাশি এবার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। চলতি মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচে খেলা হচ্ছে না তাঁর।
ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ঘোষিত দলে ওউনোর নাম রাখা হয়নি। তবে তাঁকে বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে এফসি আন্দররা ও তেনেরিফের মুখোমুখি লড়াইয়ে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি। ম্যাচের সময় বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তেনেরিফের ফরোয়ার্ড দে মিগেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দররার গোলরক্ষক ওউনোর। ওউনোর হাঁটু দে মিগেলের বুকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মাঠেই চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে ৩০ বছর বয়সী দে মিগেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাঁর ক্লাব তেনেরিফ। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। ওই ঘটনায় ওউনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় এবং ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
২০১৯ সালে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির জাতীয় দলে অভিষেকের পর দ্রুতই দলের নিয়মিত গোলরক্ষক হয়ে ওঠেন ওউনো। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সবশেষ তিনটি আসরেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০২৭ আসরের বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচেও গোলবার সামলেছিলেন এই গোলরক্ষক।
আগামী ১২ নভেম্বর বাটায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। চার দিন পর হারারেতে অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি ম্যাচ। এই দুই ম্যাচে ওউনোকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দলটিকে।
দে মিগেলের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আক্রমণের শিকার হন ওউনো। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কয়েকজন ব্যবহারকারী তাঁকে ‘খুনি’ বলে মন্তব্য করেন। অনলাইনে গালিগালাজ ও হয়রানির মুখে মঙ্গলবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেন তিনি।
বুধবার নিজের ক্লাব এফসি আন্দররার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেন ওউনো। তিনি বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন কাটছে। কী বলব, তা খুঁজে পাচ্ছি না। যা ঘটেছে, তা মেনে নেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন। জানি, অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং যা-ই আসুক না কেন, সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে সবকিছুর মোকাবিলা করব।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে হেসুস এবং তাঁকে ঘিরে আমাদের সবার এই শোক ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছি না। শান্তিতে বিশ্রাম নাও, হেসুস।”