মৃত পুলিশ থেকে যন্ত্রমানব, ফিরছে ‘রোবোকপ’
করপোরেট ক্ষমতা, পুলিশের বেসরকারিকরণ, ভোগবাদী সংস্কৃতি, সবকিছুকেই গল্পের ভেতর দিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। যন্ত্রের শরীরে আটকে থাকা একজন মানুষের গল্পের আড়ালে আসলে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, মানুষকে কতটা বদলে দিলে সে আর মানুষ থাকে না। নতুন সিরিজেও মূল গল্পের কাঠামো অনেকটা একই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গল্পে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একটা শহরকে তাদের তৈরি অত্যাধুনিক যন্ত্র পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত করার জন্য রাজি করাবে। কিন্তু সেই যন্ত্রের ভেতর যে রয়েছে একজন মৃত পুলিশ কর্মকর্তার চেতনা, সেটাই হয়ে উঠবে গল্পের মূল বিষয়।
অর্থাৎ বাইরে থেকে সে একটা যন্ত্র। কিন্তু ভেতরে? সেখানে এখনো একজন মানুষ।
এই দ্বন্দ্বই রোবোকপের গল্পকে অন্য অনেক সায়েন্স ফিকশন গল্প থেকে আলাদা করে। করপোরেশন তাকে যতটা সম্ভব একটি পণ্যে পরিণত করতে চাইবে, আর তার ভেতরের মানুষটি বারবার ফিরে পেতে চাইবে নিজের পরিচয় ও অতীত।
সিরিজটির লেখক, শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন পিটার ওকো। ‘লজ ৪৯’-এর মতো সিরিজে কাজ করেছেন তিনি।
‘স’, ‘দ্য কনজ্যুরিং’ ও ‘অ্যাকুয়াম্যান’-এর নির্মাতা জেমস ওয়ানও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। ব্লামহাউস অ্যাটমিক মনস্টারের হয়ে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও একটি কারণে নতুন সিরিজটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রোবোকপের মূল সিনেমার সহলেখক এড নিউমায়ারও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। ফলে প্রায় চার দশক আগের মূল গল্পের সঙ্গে নতুন সিরিজটির সরাসরি যোগসূত্র থাকছে।
রোবোকপের গল্পে মানুষ আর যন্ত্রের সম্পর্কের প্রশ্নটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন সিরিজটি এমন এক সময়ে আসছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থা দ্রুত বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবন।
তাই প্রায় ৪০ বছর আগের গল্পের প্রশ্নগুলোও নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। একটি যন্ত্র যদি মানুষের মতো চিন্তা করে, স্মৃতি ধরে রাখে কিংবা সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাকে কি শুধু যন্ত্র বলা যায়? আর মানুষকে যদি প্রযুক্তি দিয়ে বদলে ফেলা হয়, তখন তার পরিচয় কোথায় গিয়ে শেষ হয়?
রোবোকপকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। পিটার ওয়েলার ১৯৯০ সালে ‘রোবোকপ ২’ সিনেমায় আবারও চরিত্রটিতে অভিনয় করেন। ১৯৯৩ সালের ‘রোবোকপ ৩’-এ রোবোকপের ভূমিকায় দেখা যায় রবার্ট জন বার্ককে। পরে এই চরিত্র নিয়ে টেলিভিশন প্রযোজনাও হয়েছে।
২০১৪ সালে জোয়েল কিনাম্যানকে নিয়ে হলিউডে রোবোকপের নতুন সংস্করণও মুক্তি পায়।
এবারের প্রত্যাবর্তনের পেছনে অ্যামাজনের ২০২২ সালে এমজিএম অধিগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ওই চুক্তির মাধ্যমে অ্যামাজন এমজিএমের বিপুলসংখ্যক জনপ্রিয় সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজের স্বত্ব নিজেদের হাতে পায়।
তবে নতুন রোবোকপ সিরিজটি কবে দর্শকের সামনে আসবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। বাকি অভিনয়শিল্পীদের নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সম্পর্কিত খবর
entertainment-culture
আশি-নব্বই দশকের নস্টালজিক ছবি বানাতে সেরা ২০ এআই প্রম্পট
প্রতিবেদক: সংগৃহীতসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আশি ও নব্বই দশকের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনার ছবি তৈরির ট্রেন্ড। ‘হোয়াট ওয়্যার ইউ লাইক ইন দ্য ’৯০স’ কিংবা ‘আশির দশকে আপনি কেমন ছিলেন’ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি এসব ছবি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশেও গত কয়েক দিন ধরে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
entertainment-culture
ফেসবুক ব্যবহার ছাড়ার কারণ জানালেন আসিফ...
প্রতিবেদক: সংগৃহীতসমসাময়িক তারকাদের মধ্যে গায়ক আসিফ আকবর একটু দেরিতে ফেসবুক ব্যবহার শুরু করেন। দেরিতে ব্যবহার শুরু করলেও ফেসবুকে ভালো অনুসারী গ্রুপ তৈরি হয় তাঁর। হঠাৎ সম্প্রতি একটি সিনেমার অনুষ্ঠানে জানালেন, তিনি এখন আর ফেসবুক ব্যবহার করছেন না। তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি ও পেজ দুটোই ডি–অ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক ব্যবহার থেকে দূরে থাকায় আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে জানালেন আসিফ আকবর।
entertainment-culture
অভিনয়ে সপ্তাহে পেতেন ৬০–৬৫ টাকা, স্ত্রীসহ থাকতেন উপোসও, একদিন হয়ে ওঠেন ঢালিউডের মহানায়ক
প্রতিবেদক: সংগৃহীতএকসময় সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতেন। টেলিভিশনে অভিনয় করে সপ্তাহে পেতেন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মাসের খরচ ছিল প্রায় ৬০০ টাকা। সন্তানদের দুধ জোগাড় করতেই সামান্য আয় শেষ হয়ে যেত। কখনো স্ত্রীকে নিয়ে উপোসও করতে হয়েছে। টাকাপয়সার অভাবে ফার্মগেট থেকে ডিআইটি টেলিভিশন কেন্দ্রে হেঁটে যেতেন। সেই মানুষটিই একদিন হয়ে উঠলেন ঢালিউডের মহানায়ক—নায়করাজ রাজ্জাক। শূন্য হাতে ঢাকায় এসে ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসা সেই তরুণের জীবন যেন সত্যিই কোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
entertainment-culture
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপিত
প্রতিবেদক: UU Studentউত্তরা ইউনিভার্সিটিতে যথাযথ মর্যাদা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জয়ন্তী। ২০ আগস্ট / ০৫ ভাদ্র বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী’ উপলক্ষে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।