শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 | আর্কাইভ
পরামর্শ

ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে, কিডনি ভালো রাখতে খাবেন যেসব খাবার

ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে, কিডনি ভালো রাখতে খাবেন যেসব খাবার
প্রতিকী ছবি © এআই সম্পাদিত

ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ—দুটিই কিডনির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে কিডনির অতি ছোট রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, অপরিমিত উচ্চ রক্তচাপও কিডনির রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দুটি সমস্যা একসঙ্গে থাকলে কিডনির স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারেও আনতে হবে কিছু পরিবর্তন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবিটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেসের (এনআইডিডিকে) পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবিটিস ও কিডনির সমস্যা একসঙ্গে থাকলে খাদ্যতালিকা তৈরির ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও প্রোটিনের পরিমাণও বিবেচনায় রাখতে হয়। তবে কিডনির রোগের পর্যায় এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে এসব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বদলে যায়।

নুন ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কমান

কিডনি ভালো রাখতে প্রথমেই খাবারে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি জমার প্রবণতা বাড়াতে পারে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে। এতে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই রান্নায় অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার না করার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে।

সস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং প্যাকেটজাত খাবারেও লবণের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। খাবার কেনার সময় প্যাকেটের পুষ্টিমান ও উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কিডনি রোগবিষয়ক সংস্থা কেডিআইজিওর ২০২৪ সালের এক নির্দেশিকায় দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণ ২ হাজার মিলিগ্রামের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রায় ৫ গ্রাম খাবার লবণের সমান। তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক ভিন্ন মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন।

খাদ্যতালিকায় রাখুন তাজা শাকসবজি ও ফল

তাজা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দিতে হবে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পেঁয়াজ, শালগমের মতো সবজি এবং আপেল, আঙুর, বরই ও চেরির মতো ফল ডায়াবিটিস ও কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সম্ভাব্য ভালো বিকল্প হতে পারে।

তবে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে ক্ষেত্রে কিছু ফল ও সবজি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে। যেমন আলু, টমেটো ও কমলায় পটাশিয়াম তুলনামূলক বেশি। তাই কিডনির পরীক্ষার ফল না জেনে সব ধরনের ফল ও সবজি নির্বিচারে খাওয়া ঠিক নয়।

ভাত-রুটি খাবেন পরিমিত

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের শর্করার পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ভাত, রুটি, আলু ও অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবার একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে একবারে বেশি পরিমাণে না খেয়ে শরীরের প্রয়োজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করতে হবে।

পরিমাণ বুঝে প্রোটিন

কিডনির সমস্যা থাকলে অনেকেই মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ডাল খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু শরীরের জন্য প্রোটিন প্রয়োজনীয়। আবার প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ডায়াবিটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কিডনি রোগের তৃতীয় পর্যায় বা তার পরবর্তী পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের দৈনিক প্রতি কেজি শরীরের ওজনের বিপরীতে প্রায় ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তবে ডায়ালাইসিসে থাকা ব্যক্তিদের প্রোটিনের চাহিদা ভিন্ন হতে পারে।

তাই মাছ, ডিম, মাংস, দুধ কিংবা ডালের পরিমাণ নিজে থেকে কমিয়ে না দিয়ে চিকিৎসক বা কিডনি বিষয়ে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অস্বাস্থ্যকর চর্বি এড়িয়ে চলুন

প্যাকেটজাত খাবারে শুধু লবণই নয়, ফসফরাসযুক্ত উপাদানও থাকতে পারে। কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে না পারলে শরীরে অতিরিক্ত ফসফরাস জমে হাড় দুর্বল হওয়া এবং রক্তনালির ক্ষতির মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ কারণে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত মাংস, ফাস্টফুড এবং ফসফরাসযুক্ত খাদ্য-সংযোজক থাকা খাবার কমাতে হবে।

কিডনি পরীক্ষা করাবেন

ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে শুধু শারীরিক উপসর্গ দেখে কিডনির অবস্থা বোঝা যায় না। অনেক সময় কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলেও প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তাই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো জরুরি।

আমেরিকান ডায়াবিটিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, টাইপ-২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বছরে অন্তত একবার কিডনির কার্যকারিতা যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রক্তের ইজিএফআর (eGFR) এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও (UACR) পরীক্ষা করা প্রয়োজন। টাইপ-১ ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের পাঁচ বছর পর থেকে এসব পরীক্ষা অন্তত বছরে একবার করার পরামর্শ রয়েছে।

তবে কঠোর ডায়েট শুরু করা কিংবা কোনো পুষ্টি উপাদান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

```

সম্পর্কিত খবর

জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ বিভিন্ন দেশের, কিসের আশঙ্কা? admission-guidance

জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ বিভিন্ন দেশের, কিসের আশঙ্কা?

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়িতে খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে তিন দিনের, সুইডেন ও নরওয়েতে এক সপ্তাহের এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এসব পরামর্শ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বড় কোনো যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে?