শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 | আর্কাইভ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

এক বছরে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজার, মাধ্যমিকে কমেছে ৪ লাখের বেশি

এক বছরে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজার, মাধ্যমিকে কমেছে ৪ লাখের বেশি
এআই জেনারেটেড

দেশে সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসা শিক্ষায় বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এক বছরের ব্যবধানে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়—এমন মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখেরও বেশি।

শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় শিক্ষার্থী ভর্তির এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও শিক্ষার্থী বেড়েছে। তবে সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।

মাদ্রাসায় বেড়েছে শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষা দেওয়া হয়—এমন মাদ্রাসা ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টিতে। অর্থাৎ এক বছরে মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে ২৭টি।

একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের কিছু বেশি থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। ফলে এক বছরে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারেরও বেশি।

এই হিসাবের মধ্যে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে সব ধরনের মাদ্রাসা মিলিয়ে শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা আরও বেশি।

মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দাখিল মাধ্যমিক এবং আলিম উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সমমানের। উচ্চশিক্ষার স্তরে রয়েছে ফাজিল ও কামিল। দাখিল ও আলিমের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কমেছে চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়লেও সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চিত্রটি বিপরীত। ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি।

তবে প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরে শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারেরও বেশি।

এদিকে স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থী কমেছে। বিপরীতে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন। ২০২৪ সালে দেশে ১৪৩টি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ৭৭ জন। পরের বছর এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭২।

মাদ্রাসায় আগ্রহ বাড়ার সম্ভাব্য কারণ

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা, ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

করোনার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলা অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও মনে করছেন কোনো কোনো শিক্ষাবিদ। মাদ্রাসা শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগে শিক্ষার্থী সংগ্রহে বাড়ি বাড়ি যেতে হতো। এখন অনেক প্রতিষ্ঠানেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আসছে।

তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার বিপরীতে মাদ্রাসায় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি। মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী স্থানান্তর হচ্ছে কি না, কিংবা অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত, শিক্ষার ব্যয় ও প্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা কতটা প্রভাব ফেলছে, তা-ও স্পষ্ট নয়।

শিক্ষার্থী কমার কারণ জানতে গবেষণার তাগিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদের মতে, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমার পেছনে করোনার পর শিখনঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

তিনি মনে করেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেদনে উঠে আসা অন্যান্য প্রবণতাও নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

শিক্ষার মান নিশ্চিত করাও জরুরি

শিক্ষার্থী বাড়লেই যে শিক্ষার মান উন্নত হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে মাদ্রাসায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংকটের বিষয়টিও উঠে এসেছে। শিক্ষকসংকট দূর করা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়া-কমার পাশাপাশি ঝরে পড়ার হার, শিক্ষকদের যোগ্যতা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় শিক্ষার্থী ভর্তির এই পরিবর্তন কেন ঘটছে, তা নির্ণয় করে বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত খবর

দ্বিতীয় ধাপেও বাদ দেওয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইয়ুমকে institution-jobs

দ্বিতীয় ধাপেও বাদ দেওয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইয়ুমকে

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা আব্দুল কাইয়ুম এবারও নিয়োগপত্র পাননি। তিনি ফেনী জেলার বাসিন্দা।