শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 | আর্কাইভ
ক্যাম্পাস ভয়েস

JTEC শিক্ষার্থী কাওসার রিফাতের ক্যাম্পাস জীবন, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

JTEC শিক্ষার্থী কাওসার রিফাতের ক্যাম্পাস জীবন, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

মোহাম্মদ কাওসার রিফাত: JTEC, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্যাম্পাস জীবনের গল্প

Campus Lenz BD | Student Stories

ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (JTEC) ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কাওসার রিফাতের সঙ্গে ক্যাম্পাস জীবন, পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একান্ত কথোপকথন।

ক্যাম্পাস জীবন ও পরিচিতি

১. প্রথমেই তোমার নিজের সম্পর্কে একটু বলো। তুমি কোথা থেকে, তোমার পড়াশোনার শুরুটা কীভাবে?

আসসালামু আলাইকুম। আমি মোহাম্মদ কাওসার রিফাত। আমার হোমটাউন দিনাজপুর। বর্তমানে আমি ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (JTEC) ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত আছি।

২. Fabric Engineering—এই বিষয়টা বেছে নেওয়ার পেছনে আসলে কী কারণ ছিল?

ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নেওয়ার পেছনে আমার প্রধানত দুটি কারণ ছিল। প্রথমত, এটি একটি অলরাউন্ডার ডিপার্টমেন্ট। প্রায় প্রতিটি টেক্সটাইল কারখানায় ফ্যাব্রিক-সম্পর্কিত কাজ, যেমন উইভিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের সুযোগ থাকে। তাই এই বিভাগে পড়লে ভবিষ্যতে কাজের ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত থাকে বলে আমি মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমার মেরিট পজিশন ও পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় আমি ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নিয়েছি।

৩. JTEC-এ তোমার যাত্রাটা কেমন ছিল? প্রথম যখন ক্যাম্পাসে এসেছিলে, তখনকার অনুভূতিটা কেমন ছিল?

সত্যি বলতে, শুরুতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারণা ছিল না। পরে আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারি এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মেরিট লিস্ট অনুযায়ী JTEC-এ ভর্তির সুযোগ পাই। বাসার তুলনামূলক কাছাকাছি হওয়াটাও ঝিনাইদহ বেছে নেওয়ার একটি কারণ ছিল।

ভর্তি পরীক্ষার সময়টা আমার জন্য খুব সহজ ছিল না। সবার মতো আমারও কিছু প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত সব জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। তবে আল্লাহর রহমতে শেষ পর্যন্ত JTEC-এ সুযোগ পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমি আমার অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট এবং এখান থেকেই নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

৪. তোমার কাছে Jhenaidah Textile Engineering College-এর সবচেয়ে ভালো দিক কোনটা?

আমার কাছে JTEC-এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো এখানে নিজেকে প্রকাশ করার এবং নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বাধীনতা রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী চাইলে নিজের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে পারে, নতুন কিছু শিখতে পারে এবং নিজের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি এখানকার মানুষজনও বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এই স্বাধীনতা, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং নিজেকে বিকশিত করার সুযোগই আমার কাছে JTEC-কে বিশেষ করে তুলেছে।

৫. যারা JTEC সম্পর্কে জানে না, তাদের কাছে তোমার ক্যাম্পাসকে কীভাবে পরিচয় করিয়ে দেবে?

ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (JTEC) বাংলাদেশের বস্ত্র অধিদপ্তর দ্বারা পরিচালিত এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (BUTEX)-অধিভুক্ত ১০টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে একটি। এটি বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান।

এখানে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে চারটি প্রধান বিভাগে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে—ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং।

আমার কাছে JTEC শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি নিজেকে আবিষ্কার করার, নতুন কিছু শেখার এবং নিজের দক্ষতা বিকশিত করার একটি জায়গা। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা, জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমাদের ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ, বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষজন এবং নতুন কিছু করার সুযোগ একে আরও বিশেষ করে তুলেছে। আমি মনে করি, যারা শেখার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব বিকশিত করতে চায়, তাদের জন্য JTEC একটি সম্ভাবনাময় জায়গা।

৬. ক্যাম্পাসে তোমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটা এবং কেন?

ক্যাম্পাসে আমার প্রিয় জায়গা অনেক, তবে সবচেয়ে প্রিয় আমার হল। হল লাইফ আমার কাছে খুবই সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা। এখানে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে থাকা এবং সবার সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন টংয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেও ভালো লাগে। সব মিলিয়ে হলই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

৭. ক্যাম্পাস জীবনে এমন কোনো মুহূর্ত আছে, যেটা তুমি ভবিষ্যতে অনেক দিন মনে রাখতে চাও?

আমার কাছে ক্যাম্পাস জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই বিশেষ। ভালো কিংবা খারাপ—প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকেই আমি কিছু না কিছু শিখতে পারি। প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাই কোনো মুহূর্তকেই আলাদা করে বাদ দিতে চাই না। তবে যখন নিজের উদ্যোগে ভালো কিছু করতে পারি এবং তার স্বীকৃতি বা সাফল্য পাই, তখন সেই মুহূর্তগুলো আমার কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে।

ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্যারিয়ার

৮. অনেকেই হয়তো Fabric Engineering সম্পর্কে খুব বেশি জানে না। খুব সহজভাবে বললে Fabric Engineering আসলে কী?

ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বুঝতে হলে প্রথমে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ফাইবার ও সুতা থেকে শুরু করে কাপড় তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত পোশাক উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পড়াশোনা করা হয়।

ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এই বৃহৎ ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এখানে মূলত উইভিং ও নিটিংয়ের মাধ্যমে কাপড় তৈরি, বিভিন্ন ধরনের ফ্যাব্রিকের গঠন ও বৈশিষ্ট্য, ফ্যাব্রিক টেস্টিং এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল সম্পর্কে পড়াশোনা করা হয়। সহজভাবে বললে, একটি কাপড় কীভাবে তৈরি হয়, তার গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়াকে কীভাবে উন্নত করা যায়—এসবই ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৯. এই বিষয়ে পড়াশোনা করতে হলে একজন শিক্ষার্থীর কী ধরনের আগ্রহ বা দক্ষতা থাকা দরকার?

আমার মতে, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চারটি প্রধান বিভাগের কোনোটিই খারাপ নয়। প্রতিটি বিভাগেরই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। তাই একজন শিক্ষার্থীর প্রথমেই নিজের আগ্রহ, লক্ষ্য এবং বড় কিছু করার মানসিকতা থাকা উচিত। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের নাম নিয়ে চিন্তা না করে, নিজের দক্ষতা তৈরি এবং ভালো কিছু করার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। সঠিক আগ্রহ, পরিশ্রম ও শেখার মানসিকতা থাকলে একজন শিক্ষার্থী ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও ভালো করতে পারবে।

১০. Fabric Engineering পড়ার সবচেয়ে কঠিন বা চ্যালেঞ্জিং বিষয় কোনটা?

আমার মতে, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দিক হলো এর টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আয়ত্ত করা। এখানে বিভিন্ন মেশিনের কার্যপ্রণালি, মেকানিজম এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান থাকা জরুরি। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করলেই হয় না; ব্যবহারিক জ্ঞানও ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হয়। তাই টেকনিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা অর্জন করাই আমার কাছে এই বিভাগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

১১. এই বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন শিক্ষার্থী কী কী ক্যারিয়ার গড়তে পারে?

ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন শিক্ষার্থী উইভিং, ফ্যাব্রিক উৎপাদন, ফ্যাব্রিক কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স এবং ফ্যাব্রিক টেস্টিংয়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে পারে। এ ছাড়া অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী মার্চেন্ডাইজিংসহ টেক্সটাইল শিল্পের অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমার মতে, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি বড় সুবিধা হলো এর জ্ঞান বিভিন্ন ধরনের টেক্সটাইল কার্যক্রম বুঝতে সাহায্য করে এবং ক্যারিয়ারের একাধিক পথ খোলা রাখে।

১২. যারা এখন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের কেন Fabric Engineering বেছে নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে করো?

আমি মনে করি, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো এর বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র। এটি এমন একটি বিভাগ, যার জ্ঞান টেক্সটাইল শিল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজে লাগে। ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার এবং নিজের ক্যারিয়ারকে বিভিন্নভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু আমার কথায় নয়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত নিজের আগ্রহ, লক্ষ্য ও সক্ষমতা বিবেচনা করে বিভাগ নির্বাচন করা।

ক্যাম্পাস জীবন ও ব্যক্তিত্ব

১৩. পড়াশোনার বাইরে ক্যাম্পাসে তোমার সময় কীভাবে কাটে?

সত্যি বলতে, পড়াশোনার বাইরেই আমি তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটাই। বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করি। এর পাশাপাশি বন্ধুদের সময় দিই এবং তাদের সঙ্গে আড্ডা দিই। এভাবেই আমার ক্যাম্পাস জীবন কাটে।

১৪. তোমাদের বন্ধুদের মধ্যে তুমি কেমন? শান্ত নাকি সবচেয়ে বেশি আড্ডাবাজ?

বন্ধুদের মধ্যে আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী চলতে পছন্দ করি। কখনো চুপচাপ থাকতে ভালো লাগে, আবার কখনো আড্ডায় বেশ সক্রিয় হয়ে উঠি। আমি সাধারণত চেষ্টা করি যেন আমাকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা না হয়। তবে অন্যদের নিয়ে আড্ডা হলে আমিও নিজের মতো করে অংশ নিই। সব মিলিয়ে আমি শান্ত ও আড্ডাবাজ—দুই ধরনেরই মিশ্রণ।

১৫. ক্যাম্পাসে এমন কোনো মজার ঘটনা আছে, যেটা মনে পড়লে এখনো হাসি আসে?

ক্যাম্পাস জীবনে মজার ও মনে রাখার মতো অনেক ঘটনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো একটি ঘটনাকে আলাদা করে বলতে চাই না। আমার কাছে প্রতিটি মুহূর্তই বিশেষ, কারণ প্রতিটি অভিজ্ঞতার সঙ্গে কোনো না কোনো স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

১৬. তোমার জীবনে এমন কোনো শিক্ষক আছেন, যিনি তোমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন?

আমার জীবনে প্রত্যেক শিক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণার উৎস। স্কুলজীবন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছি। তাঁদের প্রত্যেকের জীবনের গল্প, অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। স্কুলজীবনে সুমন স্যার, প্রিতিশ স্যার, তাজুল স্যার, বাবু স্যার, ছোট সালাম স্যারসহ অনেক শিক্ষক আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। বর্তমানে JTEC-এর আল-আমিন স্যার, মামুন স্যার এবং অন্যান্য শিক্ষকের কাছ থেকেও আমি অনুপ্রেরণা পাই। তাই একজনকে আলাদা করে নয়, আমার জীবনে প্রত্যেক শিক্ষকেরই বিশেষ অবদান রয়েছে।

১৭. একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তোমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময় ব্যবস্থাপনা। পড়াশোনা, ক্লাবের কার্যক্রম, ব্যক্তিগত কাজ এবং বন্ধুদের সময় দিতে গিয়ে অনেক সময় সবকিছু সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্ন

১৮. পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাও?

পড়াশোনা শেষ করার পর আমি নিজেকে এমন একটি অবস্থানে দেখতে চাই, যেখানে আমি নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারি। আমি এমন একজন পেশাজীবী হতে চাই, যার জ্ঞান, সিদ্ধান্ত ও কাজের ওপর প্রতিষ্ঠান নির্ভর করতে পারে। আমার লক্ষ্য শুধু একটি চাকরি পাওয়া নয়; বরং নিজের কাজের মাধ্যমে এমন মূল্য তৈরি করা, যাতে আমি প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা পছন্দগুলোর একজন হয়ে উঠতে পারি।

১৯. Fabric Engineering নিয়ে তোমার ব্যক্তিগত স্বপ্নটা কী?

ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রেই কাজ করার ইচ্ছা আছে। আমি যদি ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দিই, তাহলে চেষ্টা করব প্রথম দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নিজের দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যানেজার পদে পৌঁছানোর যোগ্যতা অর্জন করতে। আমার লক্ষ্য হলো দ্রুত শেখা, বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং নিজের কাজের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে ভালো অবস্থানে পৌঁছানো।

২০. বাংলাদেশের Textile sector নিয়ে তোমার কী ধরনের স্বপ্ন বা প্রত্যাশা আছে?

আমার মতে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, শ্রমিকদের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালনাগত সমস্যার কারণে এই খাতকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। আমি আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টেক্সটাইল শিল্পের উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেবে, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং এই খাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে টেক্সটাইল শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২১. আজ থেকে পাঁচ বছর পরের Kawsar Rifat-কে তুমি কোথায় দেখতে চাও?

পাঁচ বছর পর আমি নিজেকে অনেক ভালো একটি অবস্থানে দেখতে চাই। আমি এমন পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করব, যেখানে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে বড় দায়িত্ব পালন করতে পারি। সিইও হতে পারি বা না-ও পারি, তবে সিএমও, ডিএমও কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা পদে পৌঁছানোর মতো যোগ্যতা অর্জন করতে চাই। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করা এবং নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

দ্রুত প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত উত্তর

২২. চা নাকি কফি?
চা।

২৩. সকাল নাকি রাত?
রাত।

২৪. ক্লাস নাকি আড্ডা?
দুটোই।

২৫. বই নাকি সিনেমা?
সিনেমা।

২৬. প্রিয় শিক্ষক?
আল-আমিন স্যার।

২৭. প্রিয় বন্ধু?
আমি নিজেই।

২৮. ক্যাম্পাসের প্রিয় জায়গা?
হল।

২৯. সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পান কার কাছ থেকে?
আমার আব্বুর কাছ থেকে।

৩০. JTEC এক কথায়?
রসময়, চমৎকার, অসাধারণ এবং এক্সপ্লোর করার মতো একটি জায়গা।

৩১. জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।

JTEC নিয়ে গর্ব ও প্রত্যাশা

৩২. তোমার ক্যাম্পাসের সবচেয়ে গর্বের বিষয় কী?

আমার ক্যাম্পাস নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। প্রথমত, JTEC আমার কাছে টেক্সটাইল শিক্ষার একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান। আমাদের ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশও একটি বড় বৈশিষ্ট্য। আমরা সম্প্রতি গ্রিন ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত একটি জাতীয় পুরস্কার হাতে পেয়েছি, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

এ ছাড়া আমাদের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। আমরা ক্যারিয়ার ক্লাবের মাধ্যমে টেক্সটাইল অলিম্পিয়াড আয়োজনের উদ্যোগও নিয়েছি। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের অনেক ভাই উচ্চশিক্ষা ও ভালো স্কলারশিপের সুযোগ নিয়ে দেশের বাইরে পৌঁছেছেন। সব মিলিয়ে, একাডেমিক কার্যক্রম, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অর্জন এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ—সব দিক থেকেই JTEC নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক কিছু রয়েছে।

৩৩. তোমার ক্যাম্পাসে একটি পরিবর্তনের সুযোগ পেলে তুমি কী পরিবর্তন করতে চাইবে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেওয়া হয়নি।

৩৪. তোমার ক্যাম্পাসকে এক বাক্যে কীভাবে তুলে ধরবে?

আমার ক্যাম্পাস এমন একটি রসময়, চমৎকার ও অসাধারণ জায়গা, যেখানে নিজেকে আবিষ্কার করা, নতুন কিছু শেখা এবং নিজের পাশাপাশি ক্যাম্পাসকেও নতুনভাবে এক্সপ্লোর করার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে।


Campus Lenz BD
Students. Stories. Moments.

সম্পর্কিত খবর