সোমবার; 28 সেপ্টেম্বর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
সোমবার; 28 সেপ্টেম্বর 2026 | আর্কাইভ
প্রতিযোগিতা ও পদক

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় পাবনার ফিহা হুসাইনের রৌপ্যপদক জয়

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় পাবনার ফিহা হুসাইনের রৌপ্যপদক জয়
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় রৌপ্যপদক জয়ী ফিহা হুসাইনের হাতে বাংলাদেশের পতাকা © সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় আয়োজিত সম্মানজনক আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬-এ সিলভার মেডেল (রৌপ্যপদক) অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক ফিহা হুসাইন। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রজেক্ট সোলার এফিক্স উদ্ভাবন করে অ্যাপলাইড ফিজিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন।

ফিহা হুসাইন পাবনা পৌর শহরের জেলাপাড়ার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন ও ফারজানা হোসেন দম্পতির সন্তান।

যেভাবে কাজ করে সোলার এফিক্স
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব বিবেচনা করে সোলার এফিক্স (সোলার ফার্মের জন্য এআই-ভিত্তিক ত্রুটি শনাক্তকরণ ও কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা) শীর্ষক এই প্রজেক্টটি তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত বড় সোলার ফার্মে ধুলাবালি, ছায়া, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কিংবা তারের সংযোগের সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেকটাই কমে যায়। সোলার এফক্সি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতিটি সোলার প্যানেল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে। এটি যেকোনো সম্ভাব্য ত্রুটি আগাম শনাক্ত করে, নির্দিষ্ট কোন প্যানেলে সমস্যা হচ্ছে তা নির্ধারণ করে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের সঠিক নির্দেশনা প্রদান করে।

প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক সাফল্য
এর আগে দেশের জাতীয় পর্বে প্রায় ২৫০টির বেশি উদ্ভাবনী প্রজেক্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিজয়ী হন ফিহা এবং আন্তর্জাতিক রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের একাধিক বুট ক্যাম্প ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেন তিনি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশের একজন ডেলিগেট হিসেবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন এই তরুণ।

মালয়েশিয়ার সেগি ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিযোগিতায় চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, কানাডা, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ ১২টির বেশি দেশের ৪০০টির বেশি প্রজেক্ট অংশ নেয়। এর মধ্যে অফলাইন প্রদর্শনীতেই ছিল প্রায় ৩০০টি প্রজেক্ট। ফিহা তাঁর ক্যাটাগরিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রায় ৫০টি শক্তিশালী প্রজেক্টকে পেছনে ফেলে এই বিশেষ গৌরব অর্জন করেন।

উচ্ছ্বাস ও সম্মান উৎসর্
আন্তর্জাতিক মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে সম্মাননা নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফিহা হুসাইন বলেন, পাবনার একজন তরুণ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা এবং দেশের জন্য সাফল্য নিয়ে আসতে পারাটা অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। ভবিষ্যতে সোলার এফিক্সকে আরও উন্নত করে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

এই সাফল্যকে ফিহা সমগ্র পাবনাবাসীকে উৎসর্গ করেছেন। এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় সার্বিক সহায়তার জন্য তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।

সম্পর্কিত খবর