মঙ্গলবার; 22 সেপ্টেম্বর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
মঙ্গলবার; 22 সেপ্টেম্বর 2026 | আর্কাইভ
শিক্ষাঙ্গন

নিয়ম লঙ্ঘন করে ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে শিক্ষক বাবা

নিয়ম লঙ্ঘন করে ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে শিক্ষক বাবা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
অভিযোগটি উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুনিরুল হকের বিরুদ্ধে। তার ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় ৪৭ নম্বর পেয়ে মেধাক্রমে ৩ হাজার ২৫৫তম হলেও পরে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৩১ নম্বর পান তিনি। সব মিলিয়ে ৭৮ নম্বর পেয়ে নিজ গ্রুপে অষ্টম হয়ে ভর্তির সুযোগ পান। ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ইউনিটে ১ হাজার ৫৩৬টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেন ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জন। অর্থাৎ প্রতিটি আসনের জন্য প্রায় ৮২ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ‘সি’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর এবং ব্যবহারিক অংশের পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক মোহা. মুনিরুল হক। শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ১১ সদস্যেরও একজন তিনি। এ ছাড়া ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তিনটি গ্রুপের ব্যবহারিক পরীক্ষায় তিনি পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে তার ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের যে গ্রুপে পরীক্ষা দেন, সেই গ্রুপেও তিনি পরিদর্শক ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে বিষয়টি লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে জানাতে হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবনে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এমনকি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতেও তার থাকার সুযোগ নেই। তবে অধ্যাপক মুনিরুল হক তার ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাননি বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ‘সি’ ইউনিটের চিফ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে বিষয়টি লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে জানাতে হয়। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবনেও ওই শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতেও তিনি থাকতে পারেন না।

অধ্যাপক মুনিরুল হক বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের কাছে এমন কোনো আবেদন দেননি।’

তবে ছেলের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অধ্যাপক মুনিরুল হক। তিনি বলেন, তার ছেলে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এটি জানানো হলে ভালো হতো। তবে তিনি দাবি করেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় তিনি শুধু একজন পরিদর্শক ছিলেন। সেখানে তার নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যাপক মুনিরুল হক বলেন, ‘নিয়ম একটু লঙ্ঘন হয়েছে। তবে খুব বেশি হয়নি। এতে সমস্যা হওয়ার কথা না।’

তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন শিক্ষকের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমরা পোষ্যকোটা বিলুপ্ত করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এটা তার থেকেও ভয়ংকর। এটা স্পষ্টত একটি প্রতারণা।’

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য জানিয়েছিলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

একদিনে প্রাণ গেল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২ শিক্ষার্থীর education

একদিনে প্রাণ গেল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২ শিক্ষার্থীর

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী আরফীন রিফাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনাতের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনাত। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরফীন রিফাতেরও মৃত্যু হয়েছে।

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যায় রাতে সন্দেহভাজনের গতিবিধি, প্রতিবেদনে নেই পরিচয়! education

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যায় রাতে সন্দেহভাজনের গতিবিধি, প্রতিবেদনে নেই পরিচয়!

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে গভীর রাতে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি নিয়ে। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি রাত ১টা ৪৮ মিনিটে লালন শাহ হলের সিসিটিভি ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তাকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তদন্ত প্রতিবেদনে তার পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই ব্যক্তির উপস্থিতি ও পরিচয় নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে।

চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভবনে তালা education

চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভবনে তালা

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই বিক্ষোভ করেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ঢাকায় এসে জানলেন— ‘তিনি আর চুয়েটের ভিসি নেই’ education

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ঢাকায় এসে জানলেন— ‘তিনি আর চুয়েটের ভিসি নেই’

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে এসে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম জানতে পারলেন, তিনি আর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য নেই। এর মধ্যেই সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।