মঙ্গলবার; 22 সেপ্টেম্বর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
মঙ্গলবার; 22 সেপ্টেম্বর 2026 | আর্কাইভ
ধর্ম ও নৈতিকতা

নবীপ্রেমে সেজেছে চট্টগ্রাম, কাল লাখো মানুষের জশনে জুলুস

নবীপ্রেমে সেজেছে চট্টগ্রাম, কাল লাখো মানুষের জশনে জুলুস
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস কাল। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) লাখো মানুষের নবীপ্রেমের আবেগে মুখর হয়ে উঠবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুস। বিশ্বশান্তি ও মানবতার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই ধর্মীয় শোভাযাত্রায় এবারও ৫০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। অতিথি হিসেবে থাকবেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)।

এদিন সকাল ৮টায় ষোলশহরের আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুস শুরু হয়ে বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে আবার একই পথে জুলুস ময়দানে ফিরে আসবে।

জানা গেছে, জশনে জুলুসের গোড়াপত্তন হয় ১৯৭৪ সালে। পীরে কামেল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় এবং আঞ্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরীর বলুয়ার দিঘির পাড় খানকাহ এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া থেকে প্রথম এ জুলুস বের হয়।

এদিকে, জুলুসকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে উৎসবের সাজে সেজেছে চট্টগ্রাম। সড়কের দুই পাশে পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন, তোরণ ও আলোকসজ্জায় বদলে গেছে নগরের চেহারা। কাজির দেউড়ি, মুরাদুপুর, ষোলশহর, জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেটসহ আশপাশের বেশ কয়েক কিলোমিটার পথজুড়ে শোভা পাচ্ছে সুদৃশ্য তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন পতাকা। রাতে বিভিন্ন ভবনে করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা।

প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে নগর পুলিশ নিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুর আলম মনজু বলেন, জশনে জুলুসের মূল বার্তা হলো, শান্তি, মানবতা, অহিংসা ও প্রিয়নবীর (সা.) সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনে ধারণ করা। সংকিল ও অশান্ত বিশ্বে প্রিয়নবীর সুমহান আদর্শ প্রচার এবং মুসলিম মিল্লাতের ঐক্য সুদৃঢ় করাই এই জুলুসের প্রধান লক্ষ্য।

সম্পর্কিত খবর

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ religion-ethics

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্যময় দিন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) সউদী আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’-এর যুগ। তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করতো। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।