দেশে ২৫ ধরনের প্রতিষ্ঠানে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা, অর্ধেকই পড়ছে বেসরকারি পর্যায়ে
দেশে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৫ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে প্রায় ৯৬ লাখ শিক্ষার্থী। শুধু কিন্ডারগার্টেনেই রয়েছে ৫০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী।
শিক্ষা জরিপ ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেন রয়েছে ২৬ হাজার ২৯৯টি। এ ছাড়া উচ্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন ইবতেদায়ি বিভাগ, বেসরকারি বিদ্যালয়, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, এনজিও স্কুলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১ কোটি ৬ লাখ
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন এবং শিক্ষার্থী ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন।
অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭৪ জন এবং শিক্ষার্থী ৫০ লাখ ৮ হাজার ৮৫০ জন। উচ্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন ইবতেদায়ি বিভাগে ১৪ লাখ ৩২ হাজার ১২৭ জন এবং উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিভাগে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৫ জন। ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ জন এবং এনজিও পরিচালিত স্কুলে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষার্থী।
প্রাক্-প্রাথমিকেও এগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
প্রাক্-প্রাথমিক স্তরেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে।
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এ স্তরে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৩ জন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল ১৬ লাখ ৩২ হাজার ৪২৬ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিল ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৭ জন শিশু। অর্থাৎ প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে ভর্তি হয়েছে। শুধু কিন্ডারগার্টেনেই এ পর্যায়ে ভর্তি হয়েছিল ১২ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৭ জন শিশু।
বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করায় এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, তদারকি ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর বক্তব্য অনুযায়ী, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারি আইন ও বিধিমালার আওতায় আসতে হবে। এ জন্য নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে জেলা, বিভাগ ও উপজেলা পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আগে নিবন্ধনের আবেদনপ্রক্রিয়া অফলাইনে থাকলেও বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
নিবন্ধনের আওতায় এলে এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম তদারকি করা সহজ হবে। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও পেতে পারে।
এ ছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে সরকার নির্ধারিত পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণ এবং সরকারি পাঠ্যবই ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।