শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
শুক্রবার; 06 নভেম্বর 2026 | আর্কাইভ
ক্যাম্পাস নিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্ত্রীর মামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্ত্রীর মামলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্ত্রীর মামলা ©সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর এবং নিজের ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ আদায়ের দাবিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী রোজিনা সুলতানা। গত ২৮ অক্টোবর তিনি মামলাটি দায়ের করেন। এতে বকেয়া ভরণপোষণ, ইদ্দতকালীন খোরপোশ এবং দুই সন্তানের চলমান ভরণপোষণ আদায়ের আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলার বাদী রোজিনা সুলতানা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। মামলার আরজিতে তিনি অধ্যাপকের সঙ্গে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসার শুরু করার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেছেন।

আরজির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামার মাধ্যমে তাঁদের প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের আগে অধ্যাপক তাঁর পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্ক ও সন্তান থাকার তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রোজিনা। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁকে তালাক দেওয়া হয়। এরপর আবার সংসার করার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্কগুলোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাবিননামার সাক্ষীদের মধ্যস্থতায় ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট তাঁরা পুনরায় বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে ২০২৩ সালের ৪ মে প্রথম সন্তান সামিন আবদুল্লাহ বিন শাহাদাত এবং ২০২৫ সালের ২২ জুন দ্বিতীয় সন্তান সোহরাব আয়াতুল্লাহ বিন শাহাদাত জন্মগ্রহণ করে।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সন্তানদের জন্মের সময় হাসপাতাল ও অস্ত্রোপচারের ব্যয়সহ যাবতীয় খরচ রোজিনা নিজেই বহন করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেননি। পাশাপাশি সন্তানদের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্বও পালন করেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরজিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি তালাকনামার ফটোকপি রোজিনার কাছে পাঠানো হয়। ওই তালাকনামার হলফনামায় দ্বিতীয় কাবিননামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। তবে রোজিনা এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তিনি স্বেচ্ছায় পুনরায় বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন। তালাকের পর অধ্যাপক তাছিন বিভা নামের এক নারীকে বিয়ে করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ মাসে বাদী ও তাঁর দুই সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ মোট ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে রোজিনা নিজে ৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দায়ের করা পিটিশনে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর, ইদ্দতকালীন খোরপোশ বাবদ ৯০ হাজার টাকা, ৪৬ মাসের ভরণপোষণ বাবদ ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং দুই নাবালক সন্তানের বকেয়া ও চলমান ভরণপোষণ দাবি করা হয়েছে।

নিজের অভিযোগের বিষয়ে রোজিনা সুলতানা বলেন, একজন শিক্ষককে নৈতিকতাসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেই তিনি বিয়েতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর প্রত্যাশিত আচরণ পাননি। বারবার তাঁকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সন্তানদের জন্মের সময়ও অধ্যাপক উপস্থিত ছিলেন না এবং এখন পর্যন্ত তাঁদের দেখতে যাননি।

দুই সন্তানের ভরণপোষণ ও পারিবারিক ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও জানান রোজিনা। তিনি বলেন, সন্তানদের খরচ ও বাসাভাড়াসহ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে তাঁকে বাবার কাছ থেকেও আর্থিক সহায়তা নিতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, সন্তানদের প্রতি বাবার দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।

রোজিনা আরও জানান, প্রথম বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, অধ্যাপকের আগের স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া তখনো সম্পন্ন হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। প্রায় দেড় বছর পর ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে তাঁরা সংসার শুরু করেন। তবে পুনরায় বিয়ের পরও অধ্যাপক নিয়মিত পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতেন না বলে অভিযোগ তাঁর।

মামলার বিষয়ে রোজিনা জানান, গত ২৮ অক্টোবর আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পিটিশন জমা দিয়েছেন তিনি। চলতি সপ্তাহের মধ্যে মামলার সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসেছে। বিষয়টি আইনি হওয়ায় আইন উপদেষ্টার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফলিত গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ বি এম শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

```

সম্পর্কিত খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি campus-news

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (কুকসু) খসড়া গঠনতন্ত্র দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করিম বরাবর এ স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

‘দ্য ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সুহানা রহমান সুকন্যা campus-news

‘দ্য ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সুহানা রহমান সুকন্যা

প্রতিবেদক: Campus Ambassador

সুহানা ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার এ অর্জনে ব্রিটিশ রাজপরিবারের দুই সদস্য প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি পৃথক অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন। তারা দুজনই প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার সন্তান এবং তার স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠিত এ পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত।

এইচএসসি-২০২৬: আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৬৩ শিক্ষার্থী campus-news

এইচএসসি-২০২৬: আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৬৩ শিক্ষার্থী

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক

<p><strong>এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২ হাজার ৩৭৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮৬৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কলেজটির গড় পাসের হার ৯৭.৬০ শতাংশ। ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।</strong></p>

ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কলেজে শতভাগ ফেল campus-news

ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কলেজে শতভাগ ফেল

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি কলেজ থেকে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থীই । এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছে সবাই ।